ফেসবুকের পোস্টে শনাক্ত, ৪দিন পর হাবিবের মরদেহ পেল পরিবার
পরিচয় শনাক্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নাসিরনগর থানার নির্দেশনায় হাবিবুর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রাম চটিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে তাঁর ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পোস্ট করা হয়। ওই পোস্ট দেখে হাবিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরনে থাকা কালো-সাদা ডোরাকাটা শার্ট দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ আগস্ট সকালে চাচির বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাবিব আর বাড়িতে ফেরেননি। এরপর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরিবারের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতে একটি মিলাদ ও মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকারে তিনি পরিত্যক্ত ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাবিবের চাচা আব্দুল জলিল বলেন, ফেসবুকে অজ্ঞাত মরদেহের ছবি দেখে পরনের শার্টের মাধ্যমে তাঁরা হাবিবকে শনাক্ত করেন। চার দিন পর নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ শনাক্ত করে শেষবারের মতো পরিবারের কাছে ফিরে পাওয়ায় পুলিশ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
This theme has been developed by themebari.

Post a Comment