ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাটেনি গ্যাস সংকট, বন্ধ ৫ ফিলিং স্টেশন ও ১৭ কারখানা
বুধবার দুপুর থেকে জেলার অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসাবাড়ির গ্রাহক, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মালিকরা।
গ্যাস সংকটের কারণে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও গ্যাসনির্ভর ১৭টি শিল্পকারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের অনেকেই গ্যাসের অভাবে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোথাও স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্যাসনির্ভর হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে চাপ বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। তাতে বেড়েছে ব্যয় ও দুর্ভোগ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে (FSRU) গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এতে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমে গেছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে টানা তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা।
This theme has been developed by themebari.

Post a Comment