বাবার অপেক্ষায় ১০ বছরের সিমরান, ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন
আহত মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাচাতো ভাই এমদাদুর রহমানের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা এমদাদুর রহমানকে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রায় দুই মাস আগে নিজের কর্মস্থল রূপগঞ্জে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন মিজানুর রহমান। একই কর্মস্থলে কাজ করার পাশাপাশি তারা একই কক্ষে বসবাস করতেন।
তবে গত ৪ আগস্ট রাতে ঘটে ভয়াবহ এক ঘটনা। গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের গলায় ছুরি চালান এমদাদুর রহমান। এতে তার কণ্ঠনালীসহ একাধিক রক্তনালী কেটে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এমদাদুর রহমানের ছেলে তামিম সাংবাদিকদের বলেন, আমিও সেখানে আব্বার সঙ্গে চাকুরী করতাম। মিজানুর রহমান কাকা নিজে আমাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। ঘটনার দিন রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো হঠাৎ গভীর রাতে শব্দ শুনে আমি গিয়ে দেখতে পাই মিজান কাকা গলাকাটা অবস্থায় পরে আছে ও পাশেই রক্তমাখা ছুড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে আমার বাবা এমদাদুর রহমান। পরবর্তীতে আমার চিৎকারে মানুষ জড়ো হয়ে আমার বাবাকে আটক করে ও তাদের সহযোগিতায় আমি মিজান কাকাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত মিজানুর রহমানের ছোট ভাই আতিবুর রহমান বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ অভিযুক্ত এমদাদুর রহমানকে আটক করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বাদী আতিবুর রহমান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমার ভাই মানবিক দিক বিবেচনায় এমদাদুর রহমানকে চাকরি দিয়েছিল। অথচ তার প্রতিদানে সে আমার ভাইয়ের গলায় ছুরি চালিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিযুক্তের ছেলে নিজেই। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিজানুর রহমানের চার সন্তান রয়েছে এবং তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। মিজানুর রহমানের কিছু হয়ে গেলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপনে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চাঞ্চল্যকর হৃদয়বিদারক এই হত্যাচেষ্টার ঘটনা নাড়া দিয়েছে স্থানীয় সকলের হৃদয়ে। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সকলেই।
This theme has been developed by themebari.

Post a Comment