নতুন লেন খুলেও স্বস্তি নেই, সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার যানজট
গত বুধবার বিকেলে সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রামমুখী নতুন লেন খুলে দেওয়া হলেও যানজট কমেনি। দুই দিন পর ছুটির দিনে আবারও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের ধীরগতি, যানবাহন চলাচলে অব্যবস্থাপনা ও চালকদের নিয়ম না মানার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা থেকে বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে বাড়িউড়া পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও যানবাহন ধীরগতিতে চলছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। তবে কাজের গতি ধীর। গত বুধবার বিকেলে সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রামমুখী লেনটি খুলে দেওয়া হয়। এর আগে কয়েক মাস ধরে শুধু ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি লেন খোলা ছিল। ওই একটি লেন দিয়েই ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ও কুমিল্লামুখী যানবাহন চলাচল করছিল। এ পথে যানজট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। চালক ও যাত্রীদের আশা ছিল, নতুন লেন খুলে দিলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। বরং ছুটির দিনে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েছেন যাত্রীরা।
সিলেট থেকে কুমিল্লাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক শাকিল হোসেন শুক্রবার বিকেলে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, ‘বাড়িউড়া থেকে এখানে (প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ) আসতে সময় লাগছে তিন ঘণ্টা। সামনে আরও পথ রইয়া গেছে। এইখানে আসলে সময়ের ঠিক থাকে না।’
সরাইল বিশ্বরোড মোড় ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থল। বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে অনেক যাত্রীকে এখানে এসে যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়; কিন্তু মোড় এলাকায় যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।
বিশ্বরোড মোড়ে কোনো ফুটপাত নেই।শুক্রবার সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাও ছিল কম। যানজটের মধ্যে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেককে যানবাহন ছেড়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।
উন্নয়নকাজের ধীরগতি ও চালকদের নিয়ম না মানার কারণে মহাসড়কের ওই এলাকায় প্রতিদিনই সমস্যা হচ্ছে বলে জানান সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হালিম। তিনি বলেন, সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লাগামী লেনটি খুলে দেওয়া হলে যানজট থাকবে না বলে আশা করা হয়েছিল; কিন্তু চালকেরা নিয়ম না মানায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, প্রশাসন এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে।
শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিকবার কাজ বন্ধ থাকে। দেড় থেকে দুই বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাসড়কের ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার অংশে প্রায়ই যানজট দেখা যাচ্ছে।
This theme has been developed by themebari.

Post a Comment